হরমুজ প্রণালিতে মার্চে চলাচল করেছে ২২০ জাহাজ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি।

জলপথটিতে গত মার্চে মোট ২২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ডেটা ট্র্যাকিং ও বিশ্লেষণকারী মেরিন ট্রাফিক। এ যাতায়াতের অর্ধেকেরও বেশি ছিল লিকুইড ট্যাংকার। খবর আনাদোলু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, এক মাসে হরমুজে মোট যাতায়াত করা জাহাজের মধ্যে ১১১টি ছিল লিকুইড ট্যাংকার, যা মোট সংখ্যার ৫১ শতাংশ। এর পরেই ছিল ৮২টি ড্রাই বাল্ক জাহাজ (৩৭ শতাংশ) ও ২৭টি এলপিজি ক্যারিয়ার (১২ শতাংশ)। তবে গত মাসে এ প্রণালি দিয়ে কোনো এলএনজি পরিবাহী জাহাজ চলাচল করেনি।

মেরিন ট্রাফিক বলছে, এ সময় হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের গতিপথে একটি অসম প্রবাহ লক্ষ করা গেছে। উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, পারস্য উপসাগর থেকে বের হয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে যাতায়াত করেছে ১৪৯টি জাহাজ, যা মোট চলাচলের ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে উপসাগরের ভেতরে প্রবেশ করেছে মাত্র ৭১টি জাহাজ, যা মোট যাতায়াতের ৩২ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্যানুযায়ী, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করে। সে তুলনায় বর্তমানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর এ কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। এশীয় দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথটি দিয়ে ইরান বর্তমানে কেবল নিজেদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের আগের তুলনায় যাতায়াতের পরিমাণ এখনো অনেক কম থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ ‘মেরিটাইম চোকপয়েন্ট’ বা সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথটির ওপর এখন কড়া নজর রাখছেন বৈশ্বিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া গত বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরে ৩২০টি তেল ও গ্যাস ট্যাংকারসহ অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। একই সঙ্গে এসব জাহাজে আটকে আছেন আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক।

আরও